1. b71newstv@gmail.com : Moshiur Rahman : Moshiur Rahman
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

কোটালীপাড়ায় ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান: ১৫ মন ভেজাল গুড় ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কে এম সাইফুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ Time View

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভেজাল গুড় উৎপাদনের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১৫ মন ভেজাল গুড় ধ্বংস এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার কলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি টিনের ঘরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।


অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগুফতা হক।

এ সময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং ভাঙ্গারহাট নৌ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টঅভিযানকালে কলাবাড়ী গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকারের ছেলে গুড় ব্যবসায়ী চয়ন সরকারের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, সেখানে নিম্নমানের চিটাগুড়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, নন-ফুডগ্রেড রং ও ফ্লেভার, পচা মিষ্টি, নষ্ট মিষ্টির গাদ, ময়দা, সোডা ও চিনি ব্যবহার করে খেজুর ও আখের গুড় তৈরি করা হচ্ছিল। উৎপাদিত এসব ভেজাল গুড় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হতো।

 

এ সময় কারখানায় মজুদ থাকা প্রায় ১৫ মন ভেজাল গুড় জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে তা ধ্বংস করা হয় এবং কৃষি বিপণন আইনে চয়ন সরকারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, “অভিযানে দেখা গেছে, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ভেজাল গুড় তৈরি করা হচ্ছিল। প্রতিটি ড্রামের ভেতরে পোকা পাওয়া গেছে, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “এ ধরনের ভেজাল গুড় শুধু প্রতারণাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।”

অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিম্নমানের ও সন্দেহজনক গুড় উৎপাদনের অভিযোগ ছিলো। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

 

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী চয়ন সরকার তার ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category