1. b71newstv@gmail.com : Moshiur Rahman : Moshiur Rahman
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

কোটালীপাড়ায় মেলার দোকানে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

কেএম সাইফুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ Time View

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় দোকনাদারদের নিকট থেকে চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

কার্তিক পূজা উপলক্ষে গত ১৮ নভেম্বর থেকে এই মেলার আয়োজন করেন স্থানীয়রা। মেলার শেষ দিন ২১ নভেম্বর। এদিকে বিদ্যালয় মাঠে মেলার আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে নেওয়া হয়নি অনুমোদন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেলায় চাঁদাবাজির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে সরেজমিনে মেলার মাঠে গিয়ে প্রকাশ্যে দোকান প্রতি ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ি মেলা আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুরঞ্জন টাকা ধলুর নেতৃত্বে ৬/৭ জনের একটি দলকে। পরবর্তীদের সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন তারা।

এদিকে মেলায় জেনারেটরের জন্য দোকান প্রতি ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শুকুরঞ্জন টাকার ধলুর ছেলে ছাত্রদল নেতা উত্তম টাকার বিরুদ্ধে। মেলায় আগত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন এক প্রকার জোর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা চাঁদা নিচ্ছেন।
ফুচকা ও চটপটির দোকানী শ্রীফলবাড়ি গ্রামের পুলিন মৃধা বলেন, আমি ও আমার ভাই দুটি চটপটির দোকান দিয়েছি। আমার কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা ও ভাইয়ের দোকান থেকে ২০০০ টাকা চাঁদা নিয়েছে। দোকান ভেদে তারা চাঁদা তোলে। চাঁদা না দিলে দোকানে হামলা চালায়। ভয়ে সবাই টাকা দিতে বাধ্য হয়। প্রায় দেড়‘শ দোকান রয়েছে। খুব রাফ ব্যবহার করা হচ্ছে আমাদের সাথে। আমরা অসহায়। সারাবছর বিভিন্ন এলাকায় দোকান নিয়ে যাই। এভাবে কোথাও চাঁদা নেওয়া হয়না। যারা চাঁদা তোলে মেলায় তাদের কোন খরচ নাই। অথচ জিম্মি করে চাঁদা নিচ্ছে। মেলায় কসমেটিকসের দোকানী কলাবাড়ি গ্রামের আকাশ অধিকারী বলেন, আমি গত ২৬ বছর ধরে এই মেলায় আসি। আগে মেলার সময় এখানে অনুষ্ঠান হতো। তখন পুরস্কার ও অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য দোকানদারা খুশি হয়ে কিছু টাকাপয়সা দিতো। এখন কোন অনুষ্ঠান হয় না। অথচ জোর করে ৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্ন্তঠা চাঁদা নিচ্ছে বিএনপির নেতা ধলু টাকা, নৈয়ারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বাসুদেব টাকাসহ কয়েকজন।
মেলায় আনন্দ বিশ্বাস ও লক্ষ্মী বিশ্বাস দম্পতি চায়ের দোকান দিয়েছেন। লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন, আমি কান ধরেছি এখানের মেলায় আর কোনদিন আসবো না। এবারই প্রথম এসেছি। এখানে যে, অরাজকতা তা কোথাও নেই। সামান্য চায়ের দোকান থেকে ৫৫০ টাকা চাঁদা নিয়েছে। আমাদের উপর চরম জুলুম করা হয়েছে। অন্যদিকে জেনারেটর ব্যবহারের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে বিএনপি নেতা ধলু টাকার ছেলে উত্তম টাকাকে। টাকা না দিলে মালামাল নিয়ে যাওয়াসহ মারধোরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে আমাদের। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেলা আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকরঞ্জন টাকা ধলু এবং মেলা কমিটির সভাপতি ও নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বাসুদেব টাকাসহ চাঁদা উত্তোলনকারীরা সটকে পড়ায় তাদের সাথে কথা বলা যায়নি। তাদের মোবাইলে কল করলেও কেউ কল রিসিভ করেননি।

সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অনিমেশ গাইন সাংবাদিকদের বলেন, মেলায় চাদাঁবাজির বিষয়ে ফেসবুকে ভিডিওতে দেখেছি। সেখানে ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকরঞ্জন টাকা ধলুকে দোকান থেকে টাকা উঠাতে দেখা গেছে। খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা এটি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন বিশ্বাস বলেন, মেলা আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটি আমার কাছে আবেদন দিয়েছে। তারা জানিয়েছে পুলিশের কাছ থেকে মেলার অনুমতি নিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, স্কুলমাঠে মেলার বিষয়ে আমার জানা নেই। স্কুল মাঠে মেলা বা সমাবেশ করতে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।

ভাঙ্গারহাট নৌ পুলিশ তদন্ত কেন্দের ইনচার্জ পরিদর্শক এমদাদুল হক বলেন, মেলার জন্য পুলিশের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয় নাই। তবে প্রতিবছরই এখানে মেলা হয়ে আসছে। এ বছর মেলায় চাঁদাবাজীর কোন ঘটনা জানা নেই। তবে কেউ চাঁদাবাজির স্বীকার হলে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না দিলে আমাদের কিছু করার নেই।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে মেলা আয়োজনের জন্য কোনপ্র অক্টোবর আবেদন পাইনি। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেলা বা সমাবেশ করতে হলে জেলা প্রশাসক স্যারের অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category