মাদারীপুরের রাজৈরে এক দুবাইপ্রবাসীর স্ত্রী ও ১১ বছরের মেয়েকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর লক্ষন শীল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজ মা-মেয়েকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় দুবাইপ্রবাসী শাহাদাত মোল্লা রাজৈর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে এজাহার করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে শাহাদাত মোল্লার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তার ১১ বছরের মেয়ে তায়েবা ইসলামকে নিয়ে ভাঙ্গার কালামৃধা এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তারা রাজৈরের শ্রীকৃষ্ণদী এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত মাইক্রোবাস তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় লক্ষন শীলসহ কয়েকজন তাহমিনা আক্তারের মুখ চেপে ধরেন। পরে জোরপূর্বক মা-মেয়েকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মা-মেয়ের সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
এদিকে ঘটনার তিন দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কবিরাজপুর বাজার এলাকায় লক্ষন শীলকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। চিকিৎসা শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এজাহারে শাহাদাত মোল্লা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বাড়ি তার বাড়ির পাশে। প্রায় ১২-১৩ বছর আগে অভিযুক্তরা তাদের বসতভিটা বিক্রি করে দিলে মানবিক কারণে তিনি নিজের বাড়ির পশ্চিম পাশে তাদের সাময়িকভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। পরবর্তীতে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা জায়গা ছাড়েননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক লক্ষন শীল ও অভিযোগকারী শাহাদাত মোল্লা ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে পরবর্তীতে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল কি না এবং মা-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে জমি বা অন্য কোনো বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ তাহমিনা আক্তার ও তার মেয়ে তায়েবা ইসলামকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
। মা-মেয়েকে উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।