বেদে পল্লীর নদীপথের সংগ্রামী জীবন থেকে স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছেন ইকবাল হাসান (৪৯)। একসময় ছোট্ট নৌকায় পলিথিনের তাঁবুতে বসবাস, নদীপথে ঘুরে বেড়ানো আর অভাব-অনটনের মধ্যেই কাটত তাঁর জীবন। নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আজ তিনি ইতালিতে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। তবে তাঁর এই যাত্রার পেছনে রয়েছে দুঃখ-কষ্ট, নির্যাতন ও জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার এক কঠিন গল্প।
ইকবাল হাসান গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খবির উদ্দিন আহম্মদের ছেলে। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের। উন্নত জীবনের আশায় ধারদেনা করে তিনি পাড়ি জমান লিবিয়ায়।
কিন্তু সেখানেও তাঁর জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানকালে তিনি মাফিয়াদের হাতে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল ছাড়েননি তিনি। পরবর্তী সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে ইউরোপের পথে যাত্রা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করা।
ইকবাল হাসানের এই সংগ্রাম শুধু বিদেশে যাওয়ার গল্প নয়; এটি দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। বেদে সম্প্রদায়ের একজন মানুষ হিসেবে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে দেশে অসহায় পরিবার
ইকবাল হাসানের বিদেশযাত্রার পেছনে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন থাকলেও দেশে তাঁর পরিবারের দুর্দশা এখনো কাটেনি। নদীভাঙনে তাঁদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ফলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
একদিকে ইতালিতে গিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা, অন্যদিকে দেশে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারের অনিশ্চিত জীবন—সব মিলিয়ে ইকবাল হাসানের জীবনের গল্পে উঠে এসেছে প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা।
ইকবাল হাসানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসন, নিরাপদ আশ্রয় এবং খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।
মানবিক সহায়তার প্রত্যাশা: ইকবাল হাসানের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সহৃদয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।